রুকইয়াহ শারইয়্যাহ: চিকিৎসা নাকি ব্যবসা? (পর্ব–২)

ভুল চর্চা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা

রুকইয়াহ একটি সম্মানজনক বিষয়। এটি মানুষের উপকার, দুঃখ লাঘব এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেওয়ার একটি মাধ্যম। কিন্তু যখন কোনো কাজ তার সঠিক সীমা থেকে সরে যায়, তখন সেখানে নানা ধরনের সমস্যা ও ভুল চর্চা দেখা দিতে শুরু করে।

এই বিষয়ে একজন শায়খের আলোচনা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরা হলো।

তাকওয়া ও ইলমের গুরুত্ব

শায়খ বলেন— যদি কারও মধ্যে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) না থাকে এবং পর্যাপ্ত দ্বীনি জ্ঞান না থাকে, তাহলে তার জন্য রুকইয়াহ করা উচিত নয়।

কারণ অধিকাংশ ভুল দুই কারণে জন্ম নেয়—

  • তাকওয়ার অভাব

  • সঠিক জ্ঞানের অভাব

যেখানে তাকওয়া ও ইলম থাকবে, সেখানে ইনশাআল্লাহ কল্যাণ ও বরকত থাকবে।


জিনের সাহায্য নেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা

আজকাল কিছু মানুষ রুকইয়াহর নামে জিনের সাহায্য নেওয়ার কথা বলে। অথচ আলেমগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন— এ পথ সঠিক নয়।

জিন একটি অদৃশ্য জগতের সৃষ্টি। কেউ যদি নিজেকে মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, তবুও মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে না তার প্রকৃত অবস্থা কী।

মানুষ ও জিনের এ ধরনের নির্ভরশীল সম্পর্ক অনেক সময় বিভ্রান্তির দরজা খুলে দেয়।

তাই একজন মুসলিমের ভরসা হওয়া উচিত একমাত্র আল্লাহর উপর।


প্রকৃত রাকী ও প্রতারকের পার্থক্য

বর্তমান সময়ে সত্য ও মিথ্যা অনেক সময় মিশে গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।

প্রতারক ও ভণ্ডরা সাধারণত—

  • জাদুমন্ত্র ও তালিসমান ব্যবহার করে

  • অদ্ভুত সংখ্যা ও সংকেত ব্যবহার করে

  • জিন বা আত্মার সাহায্য দাবি করে

  • বিভিন্ন অনুমাননির্ভর কথা বলে

  • মানুষের ভয়কে কাজে লাগায়

অন্যদিকে একজন শরিয়তসম্মত রাকী—

  • শুধুমাত্র কুরআন ও সহিহ দোয়া ব্যবহার করেন

  • তাবিজ, মাদুলি বা কুসংস্কার ব্যবহার করেন না

  • বিশ্বাস করেন, শিফা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে

  • মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেন

আর যদি তিনি বুঝতে পারেন এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়, তাহলে রোগীকে ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন।


দীনের নামে ব্যবসা

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে—

দীনের নামে ব্যবসা করা কি ঠিক?

শায়খ বলেন, মানুষের উপকার করা একটি বড় ইবাদত। অতীতের নেককার মানুষরা মানুষের সাহায্যকে ইবাদত হিসেবে দেখতেন।

বর্তমানে কোথাও কোথাও এমন চিত্র দেখা যায়—

প্রবেশ ফি, আলাদা চার্জ, পড়া পানি, পড়া তেল, বিভিন্ন জিনিসের নির্দিষ্ট মূল্য— সবকিছু যেন একটি বাণিজ্যিক তালিকায় পরিণত হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন হলো—

যদি একজন মানুষের মূল চিন্তাই হয়ে যায় অর্থ সংগ্রহ, তাহলে তার কাজে আন্তরিকতা ও ইখলাস কতটুকু অবশিষ্ট থাকবে?


রুকইয়াহর জন্য পারিশ্রমিক নেওয়ার বিধান

রুকইয়াহ করে পারিশ্রমিক নেওয়া মূলত শরিয়তে বৈধ।

হাদিসে এসেছে, একজন সাহাবী রুকইয়াহ করে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছিলেন এবং নবী ﷺ তা অনুমোদন করেছিলেন।

তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ।

কিন্তু পার্থক্য হলো—

পারিশ্রমিক নেওয়া এক বিষয়, আর এটিকে এমনভাবে ব্যবসায় রূপ দেওয়া অন্য বিষয়।

যখন মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত লাভের চিন্তা শুরু হয়, তখন সমস্যা তৈরি হয়।


শেষ কথা

আজ অনেক মানুষ রুকইয়াহর প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কুরআন, সহিহ আকীদা, আল্লাহর উপর ভরসা এবং সঠিক জ্ঞানের অনুসরণ।

আল্লাহর কিতাব শিফার মাধ্যম।

মানুষের উচিত চিকিৎসার মাধ্যম গ্রহণ করা, তবে অন্তরের ভরসা যেন সবসময় আল্লাহর উপরই থাকে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং দ্বীনের নামে ভুল পথ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

🕌 রাকি ও রুকইয়াহ 👁️ জ্বিনের আছর ✨ বদনজর 🔮 যাদুটোনা 💭 ওয়াসওয়াসা ⚠️ কুফরি শিরকি ❤️ শারীরিক-মানসিক ❓ নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর 📚 অন্যান্য প্রসঙ্গ ☘️ হালাল রুকইয়াহ 🌙 Halal Ruqyah

Post a Comment

0 Comments