বদনজর ও হিংসা থেকে বাঁচতে আমাদের করণীয়
১। কথার মাঝে আল্লাহর যিকির রাখা
আমাদের উচিত সবসময় কথাবার্তার মাঝে আল্লাহর স্মরণ রাখা। নিজের কোনো ভালো বিষয় বা নিয়ামতের কথা বললে “আলহামদুলিল্লাহ”, “মা-শা-আল্লাহ”, “আল্লাহর রহমতে” — এ ধরনের যিকির বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ আল্লাহর যিকির নিয়ামতে বরকত আনে এবং হেফাজতেরও কারণ হয়।
২। মেয়েদের জন্য শরীয়তসম্মত পর্দা
মেয়েদের জন্য শরীয়তের বিধান অনুযায়ী পর্দা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখার বিষয় নয়; বরং এটি একজন নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং আত্মসম্মানেরও সুরক্ষা।
৩। সকাল-সন্ধ্যার দোয়া নিয়মিত পড়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের কিছু দোয়া শিখিয়েছেন, যেগুলো সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত পড়লে আল্লাহর বিশেষ হেফাজত লাভ করা যায়।
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামী‘উল ‘আলীম।
সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়তে হবে।
(তিরমিযী: ৩৩৩৫)
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ:
আ‘উযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।
সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়তে হবে।
(তিরমিযী: ৩৫৫৯)
এছাড়াও—
সূরা ইখলাস
সূরা ফালাক
সূরা নাস
প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়া উচিত।
(তিরমিযী: ৩৫৭৫)
৪। শিশুদের জন্য সুরক্ষার আমল
সন্তানদের সুরক্ষার জন্য মাঝেমধ্যে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে তাদের গায়ে ফুঁ দেওয়া ভালো। রাসূল ﷺ নিজেও এমন করতেন।
৫। বদনজর থেকে বাঁচার বিশেষ দোয়া
রাসূল ﷺ এই দোয়াটি পড়ে হাসান (রা.) ও হুসাইন (রা.)-কে ফুঁ দিয়ে দিতেন। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.)-ও তাঁর সন্তানদের জন্য এই দোয়া পড়তেন।
দোয়াটি হলো—
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ:
আউযু বিকালিমা-তিল্লাহিত্তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
এই দোয়া সকাল-সন্ধ্যায় কয়েকবার পড়ে বাচ্চাদের ফুঁ দিতে পারেন, নিজের জন্যও পড়তে পারেন। ইনশাআল্লাহ বদনজর থেকে বাঁচতে তাবিজ-কবচ কিংবা নজর টিপের প্রয়োজন হবে না; আল্লাহই যথেষ্ট হেফাজতকারী।
অন্যের জন্য পড়লে কীভাবে বলবেন?
যদি অন্য কারও জন্য পড়েন, তাহলে শুরু অংশে সামান্য পরিবর্তন করা উত্তম—
একজনের জন্য:
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ:
উ‘ঈযুকা বিকালিমা-তিল্লাহিত্তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
দু’জনের জন্য:
أُعِيذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ:
উ‘ঈযুকুমা বিকালিমা-তিল্লাহিত্তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
অনেকজনের জন্য:
أُعِيذُكُمْ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ:
উ‘ঈযুকুম বিকালিমা-তিল্লাহিত্তাম্মাহ, মিন কুল্লি শাইত্বানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।
তবে সাধারণভাবে “আউযু বিকালিমাতিল্লাহ…” পড়েও অন্যের জন্য নিয়ত করা যাবে।
৬। সামাজিক মাধ্যমে অহেতুক প্রদর্শন থেকে দূরে থাকা
বর্তমানে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের সুখ, সম্পদ, পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় অতিরিক্তভাবে প্রকাশ করেন। অথচ সব নিয়ামত প্রকাশ করা সবসময় ভালো নয়। অহেতুক প্রদর্শন অনেক সময় মানুষের হিংসা ও বদনজরের কারণ হতে পারে।
৭। নিয়ামতকে অহেতুক প্রদর্শনের বস্তু না বানানো
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"নিজের প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার মাধ্যমে সাহায্য নাও। কারণ প্রত্যেক নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিংসার শিকার হতে পারে।"
এটি সফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
নিজের সম্পদ, ব্যবসা, পারিবারিক সুখ কিংবা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা অহেতুক সবার সামনে প্রকাশ না করাই উত্তম।
তবে প্রয়োজন হলে আল্লাহর যিকিরসহ বলা উচিত। যেমন—
আলহামদুলিল্লাহ, এ বছর ব্যবসা ভালো হয়েছে।
আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে ভালো ফল করেছে।
মা-শা-আল্লাহ, আপনি খুব সুন্দর কাজ করেছেন।
কেউ আপনার কোনো কিছুর প্রশংসা করলে আপনিও আল্লাহর যিকির করতে পারেন।
যেমন—
কেউ বলল:
“আপনার ছেলেটা খুব সুন্দর!”
আপনি বলুন:
“আলহামদুলিল্লাহ।”
শেষ কথা
অধিক পরিমাণে সালামের প্রচলন করুন, যিকিরে অভ্যস্ত হোন এবং সর্বদা আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।
রাসূল ﷺ বলেছেন—
"তোমরা বদনজর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। কেননা বদনজর সত্য।"
(ইবনে মাজাহ: ৩৫০৮)
একজন মুমিনের প্রকৃত নিরাপত্তা তাবিজ, কবচ কিংবা মানুষের ওপর নির্ভরতায় নয়; বরং আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর স্মরণ এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়ার মধ্যেই নিহিত।
🕌 রাকি ও রুকইয়াহ 👁️ জ্বিনের আছর ✨ বদনজর 🔮 যাদুটোনা 💭 ওয়াসওয়াসা ⚠️ কুফরি শিরকি ❤️ শারীরিক-মানসিক ❓ নির্বাচিত প্রশ্নোত্তর 📚 অন্যান্য প্রসঙ্গ ☘️ হালাল রুকইয়াহ 🌙 Halal Ruqyah
.png)
Post a Comment
0 Comments